আরব উপদ্বীপের ভৌগােলিক অবস্থান ও সীমা

আরব উপদ্বীপের ভৌগােলিক অবস্থান ও সীমা
আরব উপদ্বীপের ভৌগােলিক অবস্থান ও সীমা


পবিত্র আরব ভূ-খণ্ড হচ্ছে ইসলামের প্রাণকেন্দ্র। ভৌগােলিক অবস্থান পর্যালােচনা করলে দেখা যায় যে, আরবভূমি ইউরােপ, আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের মিলন স্থলে অবস্থিত। এদেশের মাটি পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা। তাই পবিত্র কুরআনে আরবের মক্কা নগরীকে “উম্মুল কুরা” বা আদিনগরী বলা হয়েছে।

ধারণা করা হয় যে, প্রাচীনকালে হেজাজ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত তায়ামা প্রদেশের কাছে আরাবা নামক স্থান ছিল। সেই ‘আরাবা' থেকেই কালক্রমে ‘আরব’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ইয়ারাব থেকে আরব শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।


ইয়ারাব ছিল কাহতানের পুত্র সন্তান। আর কাহতান ছিল দক্ষিণ আরবিয়দের পূর্ব পুরুষ। অন্য একটি তথ্য থেকে জানা যায় যে, হিব্রু ভাষায় প্রচলিত আবহার শব্দটি আরব শব্দের সমার্থক। আরব এবং আবহার’ দুটি শব্দের সমার্থক শব্দ হল মরুভূমি।

অপরদিকে পাশ্চাত্য অঞ্চলের লােকগণ আরবিয়দের ‘সারাসিনি’ হিসেবে অবহিত করত। সাহারা শব্দ থেকে উৎপন্ন সারাসিনি’ শব্দের অর্থ হলাে মরুভূমি’ । আবার ‘আরব’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বাগ্মিতা।

আরববাসীরা বাগ্মী হওয়ায় পৃথিবীতে তাদের দেশের এরূপ নামকরণ করেছিল। আরবের অধিকাংশ স্থান মরুময় ছিল বলেও এরূপ নামকরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

প্রাচীন আরবের ভূ-প্রকৃতি

পবিত্র আরব ভূ-খণ্ড পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপদ্বীপ। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এ ভূ-খণ্ডের তিনদিকে সমুদ্র ও একদিক মূল দ্বারা বেষ্টিত। তাই এ ভূখণ্ডকে জাজিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপ বলা হয়ে থাকে। এর পূর্বদিকে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে ললাহিত সাগর, উত্তরে সিরিয়া মরুভূমি এবং দক্ষিণ দিকে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।


তবে ভূ-প্রকৃতির দিক থেকে আরবভূমি সিরিয়া ও মেসসাপটেমিয়ার মরু অঞ্চলের অংশ ছিল। ধারণা করা হয়, আরবভূমি সাহারা ভূমির অন্তর্ভুক্ত ছিল। লােহিত সাগরের তীরব্যাপী একটানা পর্বতমালাকে আরব অঞ্চলের মেরুদন্ড বলা হয়ে থাকে। লক্ষণীয় যে, সমগ্র আরব ভূখণ্ড পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে অপেক্ষাকৃত ঢালু।


পূর্বদিকে ওমান পর্বতমালা, দক্ষিণ অঞ্চল নিচু এবং কিয়দাংশ ঢালু, উত্তরের নজদ একটি উচ্চ মালভূমি। পাহাড় ও মালভূমি ছাড়া বাকি অংশ মরু অঞ্চল এবং অনুর্বর ভূমি। আরবের উত্তরাংশে রয়েছে নুফুদ বা সাদা ও লালচে বালিযুক্ত অঞ্চল। কোথাও বা উঁচু ঢিবি আবার কোথাও বা বালিয়াড়িতে পরিণত হয়ে উত্তর আরবের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল আবৃত করে রেখেছে। এর প্রাচীন নাম হল আল বাদিয়া।


উত্তরে বিরাট নুফুদ থেকে দক্ষিণে আল-রাব-আল-খালি পর্যন্ত বিস্তৃত লাল বালিপূর্ণ আল-দাহনা বা লালভূমি দক্ষিণ-পূর্বদিকে এক বিরাট বক্ররেখা বরাবর ৬০০ মাইলের বেশি বিস্তীর্ণ পুরানাে মানচিত্রে আদ-দাহনা সাধারণত ‘আল-রাব-আল-খালি' (ফাকা অঞ্চল) নামে অভিহিত।


আয়তন

আরব ভূখণ্ডের আয়তন ১০,২৭,০০০ বর্গমাইল (২৬,৫৮,৭৮১ বর্গ কিলােমিটার)। আয়তনে এটি ইউরােপের এক-চতুর্থাংশ এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ। প্রাচীনকালে ভূমধ্যসাগরের এ স্রোতধারা উপদ্বীপকে প্লাবিত করে কিছুটা তৃণময় ও মানুষের বাসােপযােগী করে তােলে।


ভৌগােলিক পরিচিতি

ভৌগােলিক পরিচিতির দৃষ্টিকোণ থেকে আরবকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গ্রিক ভূগােলবিদদের মতে এ ভাগগুলাে হল- মরু অঞ্চল, পার্বত্য অঞ্চল ও উর্বর অঞ্চল। মরু অঞ্চল ও পার্বত্য অঞ্চল ব্যতীত।


আরবের উর্বর তৃণ অঞ্চল হেজাজ, নজদ, ইয়ামেন, হাজরামাউত এবং ওমান এ কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত ছিল। ইসলামের প্রাণকেন্দ্র হেজাজ আরবদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত এবং মক্কা, মদিনা ও তায়েফ এর তিনটি প্রধান শহর। দক্ষিণ আরবে অবস্থিত হাজামাউত, ওমান ও ইয়ামেন অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং ব্যবসায়-বাণিজ্য ও কৃষিকার্যের জন্য খুবই বিখ্যাত।


অপরদিকে মরু অঞ্চল ছিল খরতাপে বিদগ্ধ ও গুলশূণ্য, বাসের অনুপযােগী উত্তপ্ত এলাকা। কখনও কখনও মরু অঞ্চলে বিষাক্ত লু-হাওয়া প্রবাহিত হয়। 


আবহাওয়া

আরব উপদ্বীপটি অত্যন্ত শুষ্ক ও গ্রিষ্ম প্রধান দেশগুলাের মধ্যে অন্যতম। পূর্ব ও পশ্চিমে সমুদ্রবেষ্টিত হলেও সেই জলরাশি এখানকার ভূমি সিক্ত করতে পারে না। কারণ, আরবভূমি অধিকাংশই আফ্রিকা ও এশিয়ার বৃষ্টিহীন বিপুল প্রান্তর। তাই তার আবহাওয়ায় অনাবৃষ্টির কক্ষতার প্রাব্যলই বেশি।


দক্ষিণ সমুদ্র থেকে স্বাভাবিক কারণেই জলবাহী মেঘ ওঠে, কিন্তু মরুর বালুঝড় (সাইমুম) তা বাতাসেই শুষে নেয়। ফলে সেই মেঘ যখন আরবের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছায় তখন তাতে জলীয় বাষ্প আর অবশিষ্ট থাকে না। ওমান, হাজরামাউত, হেজাজ প্রভৃতি উপকুলবর্তী অঞ্চল ও পানি বিধৌত উপত্যকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।


চাষের উপযােগী বৃষ্টিপাত হয় ইয়ামেন ও আসীর প্রদেশের মাটিতে। ইয়ামেনের আধুনিক রাজধানী সানা সমুদ্র হতে কত মিটার উপরে জানেন? এটা প্রায় ৭০০ ফুট (২১৩,৩৬ মিটার) উচ্চে অবস্থিত এবং যা আরব আমিরাতের অন্যতম সুন্দর, রোমাঞ্চকর ও স্বাস্থ্যকর স্থান বলে বিবেচিত।


আরব উপদ্বীপের বৈশিষ্ট্য

আরব উপদ্বীপ একটি বিশাল ও বিস্তৃত মালভূমি। এ উপদ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত অন্যান্য অংশ বা অঞ্চল হতে অনেক উঁচু। এদেশের ভূখণ্ড পশ্চিম হতে পূর্বদিকে ক্রমনিম্ন ঢালু ভূমি দ্বারা গঠিত। মধ্যআরবে কিছু পর্বতশৃঙ্গ পরিদৃষ্ট হয়।


এগুলাে সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ৪০০০ থেকে ৬০০০ ফুট উঁচু (যথাক্রমে ১২১৮ ও ১৮১৯ মিটার)। এ আরব ভূখণ্ডের জলবায়ু সর্বত্র উষ্ণ। এদেশে নাব্য নয় এরুপ ইতস্তত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু সংখ্যক নদ-নদী রয়েছে। ভূমি অনুর্বর। কেবলমাত্র মরুদ্যান এবং উপকূলভাগ অপেক্ষাকৃত উর্বর।


ভৌগােলিক বৈশিষ্ট্যের জন্য আরব উপদ্বীপ এশিয়া, ইউরােপ ও আফ্রিকা মহাদেশের মিলনকেন্দ্র হিসেবে বিদ্যমান থেকেও যেন সমগ্র বিশ্ব হতে বিচ্ছিন্ন। আরব ভূখন্দ্রে এক-তৃতীয়াংশ মরুময়। উত্তর ভাগে নুফুদ’ মরুভূমি এবং নুফুদ হতে আরম্ভ করে দক্ষিণ ভাগ পর্যন্ত ৬০০ মাইল এলাকা জুড়ে রয়েছে আরবের বৃহত্তম মরুভূমি ‘আল-দাহনা’ ('আল্-রাব-আলখালি)।


এতদ্ব্যতীত এদেশের পশ্চিম দিকে রয়েছে আল্-হাররাহ্ নামক আর একটি ক্ষুদ্র মরুভূমি। কতিপয় পর্বতমালা, কিছুসংখ্যক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদ-নদী, স্বল্পসংখ্যক মরুদ্যান এবং এক বিশাল ও বিস্তৃত মরুভূমি বুকে নিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে বিদ্যমান রয়েছে প্রাচীনকালের আরব উপদ্বীপ বা আরব দেশ। আরব দেশের ভৌগােলিক অবস্থা এবং বৈশিষ্ট্য যেমন বৈচিত্র্যপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণও। 


আরবের ফসলাদি ও প্রাকৃতিক সম্পদ

খেজুর আরবদের প্রধান খাদ্য। খেজুর ছাড়া তাদের জীবন ধারণ করা ছিল কষ্টকর। খেজুর গাছ আরব দেশে ‘বৃক্ষরাণী হিসেবে খ্যাত। স্থানীয় লােকজনের বহুবিধ প্রয়ােজন ছাড়াও খেজুরের বীজ চূর্ণ করে উটের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।


খেজুর গাছের মিষ্টি রস আরব বেদুইনদের অন্যতম পানীয়। প্রত্যেক বেদুইনের স্বপ্ন হল ‘দুটি কৃষ্ণ দ্রব্য’ (আল-আসওয়াদান) অর্থাৎ পানি ও খেজুর। আল্-হিজাজে প্রচুর পরিমাণে খেজুর উৎপন্ন হয়। আল-ইয়ামেন ও কয়েকটি মরুদ্যানে উৎপন্ন হয় গম।


ঘােড়র খাদ্য হিসেবে চাষ হয় বার্লি কয়েকটি অঞ্চলে ভুট্টা এবং ওমান ও আল-হাসায় ধান উৎপন্ন হয়। আরবিয় মরুদ্যানে উৎপন্ন অন্যান্য ফলের মধ্যে বেদানা, বাদাম, কমলালেবু, কাগজি লেবু, আখ, তরমুজ ও কলা উল্লেখযােগ্য। আরবের কোনাে কোন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে খনিজ দ্রব্যের সন্ধান পাওয়া যায়।


প্রাচীনকালে আরবের ইয়ামেন অঞ্চল ও কেন্দ্রীয় আরবের কয়েকটি স্থানে খাটি সােনা পাওয়া যেত। আরবের প্রাকৃতিক সম্পদ হল পেট্রোল, সোনা, গ্যাস, কয়লাসহ অন্যান্য। 


আরবের প্রাণী

আরবের জীবকুলের মধ্যে চিতাবাঘ, হায়েনা, নেকড়ে, শিয়াল ও গিরগিটি উল্লেখযােগ্য। শিকারী পাখির মধ্যে ঈগল, বাজপাখি ও পেঁচা বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। অতি পরিচিত পাখির মধ্যে ঝুঁটিওয়ালা পাখি (হুদহুদ), বুলবুল, পায়রা ও আরবি সাহিত্যে আল-কাতা নামে পরিচিত এক ধরণের তিতির পাখি দেখতে পাওয়া যায়।


গৃহপালিত পশুর মধ্যে উট, ঘােড়া, গাধা, সাধারণ কুকুর, শিকারী কুকুর, বিড়াল, ভেড়া, ছাগল প্রধান। দৈহিক সৌন্দর্য, কষ্ট সহিষ্ণুতা, বুদ্ধি এবং মনিবের প্রতি মর্মস্পর্শী আনুগত্যের জন্য সুপ্রসিদ্ধ ও উত্তমভাবে প্রতিপালিত আরবিয় ঘােড়া এক অনন্য দৃষ্টান্ত।


মানুষের বিজয় অভিযানে ঘােড়া যদি হয় অগ্রগতির দূত, তাহলে যাযাবরদের চোখে উট নিশ্চিতভাবে প্রয়ােজনীয়। উটের সাহায্য ছাড়া মরু অঞ্চল কখনই মানুষের বাসযােগ্য হয়ে উঠতে পারত না। উট ছিল যাযাবরদের ধাত্রীসম। উত্তপ্ত মরুভূমিতে উট ছিল আরবদের একমাত্র যাতায়াতের বাহন।


তাই উটকে মরুভূমির জাহাজ’ বলা হয়। পবিত্র কুরআন শরীফে আরবদের জন্য এক বিশেষ অবদান হিসেবে উটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরবদের মধ্যে উটের ব্যবহার ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। যার যত বেশি উট ছিল সে ছিল ততাে বেশি ধনী। উট বেদুইনদের নিত্য সহচর ও পথের বন্ধু।


উটের মাংস তাদের খাদ্য এবং দুগ্ধ ছিল পুষ্টিকর পানীয়। উটের চামড়া দিয়ে তারা তাবু এবং পশম দিয়ে পোশাক তৈরী করত। এই উট প্রথম দিকের বিজয় অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের তুলনায় মুসলমানদের অনেক বেগবান করেছিল।


আরব জাতি ও আরব উপদ্বীপের আদিম অধিবাসীদের সঠিক ঐতিহাসিক তথ্য নিরূপন করা এখনও সম্ভব হয় নি। তবে স্বকীয়তা এবং স্বাতন্ত্রবােধে উদ্দীপ্ত আরব জাতি প্রধানত দু'ভাগে বিভক্ত। যথা- বায়দা ও বাকিয়া।


কুরআন শরীফে বর্ণিত প্রখ্যাত প্রাচীন বংশ ‘আদ’, সামুদ’, ‘তামস’ ও ‘জাদীস’ প্রভৃতি প্রাচীন আরব গােত্রগুলাে প্রথম শ্রেণিভুক্ত ছিল। পরবর্তী জাতিগুলাের মধ্যে অভূত্থানে প্রাচীন বায়দা গােত্রগুলাে বিলুপ্ত হয়। অধুনালুপ্ত বায়দা গােত্রের উত্তরাধিকারী বাকিয়া জাতি বর্তমান আরব ভূখণ্ডের প্রধান অধিবাসী।


এ বাকিয়া শ্রেণিভুক্ত আরবদের দু'ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রকৃত আরব বা আরিবা ও আরবিকৃত আরব । সর্বাপেক্ষা আদিম ও নিষ্কলুষ রক্তের অধিকারী আরিবা গােত্র কাহতানের বংশসভূত। দক্ষিণ আরবের ইয়ামেন অঞ্চলের অধিবাসী ছিল বলে তারা ইয়ামেনীয় বা হিমারিয়া বলে পরিচিত ছিল।


কাহতানের বংশের অভ্যুত্থান হতেই আরব জাতির প্রকৃত ইতিহাসের সূত্রপাত হয়। উল্লেখ্য যে, রক্তের পবিত্রতার জন্য আরিবা অথবা ইয়ামনীয়রা মুস্তারিবা গােত্রের তুলনায় অধিক ক্ষমতাশালী ছিল এবং মদিনায় হিজরত করার পর প্রকৃতপক্ষে রসুলুল্লাহ (স) তাদের নিকট হতে সহযােগিতা লাভ করেন।


ইসমাইল (আ.)-এর একজন বংশধর আদনান মুস্তারিবা গােত্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। হিজাজ, নজদ, পেত্রা, পালমিরা অঞ্চলে বসবাসকারী মুস্তারিবা গােত্রের নিযারী হতে হযরত মুহম্মদ (স) এর কুরাইশ বংশের উদ্ভব হয়।


মুস্তারিবাগণ উত্তর আরবের হিজাজের অধিবাসী হিসেবে হিজাজি বা মুদারি নামেই সমধিক পরিচিত লাভ করেন। উত্তর আরবগােত্র সাধারণভাবে নিযারি অথবা মুদারি নামে অভিহিত এবং সাধারণত তারা যাযাবরের জীবন যাপন করত।


অপরদিকে দক্ষিণ আরব অথবা ইয়ামেনিরা ছিল নাগরিক জীবনে অভ্যস্ত। কারণ, তারা সাবেয়ি ও হিমায়ারি রাজ্যের অধিবাসী ছিল। উত্তর আরবের লােকেরা কুরআন শরীফের ভাষা অর্থাৎ আরবিতে কথা বলত। দক্ষিণ আরবের লােকেরা প্রাচীন সেমেটিক ভাষা, সাবেয়ি ও হিমায়ারি ব্যবহার করত।


কৃষ্টির দিক হতে বিচার করলে দক্ষিণ আরবের সভ্যতার উন্মেষ হয় খ্রিস্টের জন্মের ১২শত বছর পূর্বে। এ ক্ষেত্রে ইসলামের আবির্ভাবের অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত উত্তর আরব ইতিহাসে কোনাে বলিষ্ঠ অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে নি।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন